ভোপাল: কুনোর জঙ্গলে ফের চিতার কিলকারি। ‘প্রজেক্ট চিতা’-য় আরও এক বড় সাফল্য এল সোমবার। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে ভারতীয় মাটিতে জন্ম নেওয়া ৩২ মাসের মাদী চিতা কেজেপি২১ একসঙ্গে পাঁচটি সুস্থ শাবকের জন্ম দিয়েছে। এই পাঁচ নতুন অতিথির আগমনে দেশে চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬০। এর মধ্যে ৪১টি চিতার জন্মই হয়েছে ভারতে।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সমাজমাধ্যমে এই সুখবর জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘মুখী’ এবং ‘কেজিপি১২’-এর পর কেজেপি২১ হল ভারতে জন্ম নেওয়া তৃতীয় মাদী চিতা, যে নিজে শাবকের জন্ম দিল। ফলে ভারতে জন্ম নেওয়া চিতাদের পরবর্তী প্রজন্ম তৈরির ক্ষেত্রে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পাঁচ শাবকের জন্মের আরও একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাদের বাবা বোতসোয়ানা থেকে ভারতে আসা একটি পুরুষ চিতা। ফলে এই শাবকদের হাত ধরে ভারতে বোতসোয়ানা-উৎসের নতুন জিনগত বংশধারার সূচনা হল বলে জানিয়েছেন ভূপেন্দ্র যাদব। এতে দেশে বেড়ে ওঠা চিতা-জনসংখ্যায় নতুন জিনগত বৈচিত্র্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কুনোয় একের পর এক চিতার জন্ম ‘প্রজেক্ট চিতা’-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২২ সালে নামিবিয়া থেকে চিতা এনে ভারতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও চিতা আনা হয়। ভারতীয় মাটিতে জন্ম নেওয়া চিতারাও যে প্রজনন করতে পারছে, তা প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নবজাতক পাঁচ শাবককে ঘিরে ইতিমধ্যেই নজরদারি শুরু করেছে বন দফতর ও পশু চিকিৎসকদের দল। মা চিতার পাশাপাশি শাবকদের শারীরিক অবস্থার উপরও নজর রাখা হচ্ছে।
পাঁচ নতুন সদস্যের আগমনে কুনোর জঙ্গলে যেমন আনন্দের আবহ, তেমনই ভারতের চিতা সংরক্ষণ কর্মসূচিতেও এল আরও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
