নয়াদিল্লি: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে বড় স্বস্তি মিলল সুপ্রিম কোর্টে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের করা আবেদনের শুনানিতে শীর্ষ আদালত আপাতত তাঁকে নির্বাচনে লড়তে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তী শুনানি হবে ৭ অক্টোবর।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সংক্রান্ত একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে ছয়টি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। সেই জামিনের মেয়াদ ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। ২১ অক্টোবর তাঁকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
হাই কোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর বক্তব্য ছিল, মিলনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য পরোয়ানাও ছিল। রাজ্য অন্তর্বর্তী জামিন বাতিলের আবেদন জানায়।
অন্য দিকে, মিলনের আইনজীবী পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং নির্বাচনের আগে গ্রেফতারির প্রেক্ষাপট নিয়ে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়। হাই কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছিল, মামলাগুলি প্রায় ১৯ বছরের পুরনো এবং পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানাগুলির হাতে দীর্ঘ সময় ধরে পদক্ষেপ করার সুযোগ ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতের কথা জানিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি আইনজীবী থাকাকালীন সংশ্লিষ্ট মামলার কয়েকজন পক্ষের হয়ে সওয়াল করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর মামলাটি ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়। ফলে ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আপাতত কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করতে পারবেন মিলন প্রধান। তবে তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে রাজ্যের আবেদন এখনও বিচারাধীন।
