নয়াদিল্লি: চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। তার পর দুই সন্তানকে বড় করার পাশাপাশি নিজের কেরিয়ারও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। বার বার কর্মস্থল বদলানোর কারণে এক সময় তাঁর জীবনযাপনকে ‘যাযাবর’ বলে মন্তব্য করেছিল নিম্ন আদালত। সেই মায়ের পক্ষেই এ বার বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের। দুই সন্তানের কাস্টডি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সময় মহিলা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে দুই সন্তানকে মানুষ করেন। আইআইটি যোধপুর, বিজয়ওয়াড়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেঙ্গালুরুতে কাজ করার পর তিনি ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অফ হাল-এ লেকচারারের চাকরি পান।
সন্তানদের নিজের সঙ্গে ব্রিটেনে নিয়ে যেতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। এর আগে কাস্টডি সংক্রান্ত মামলায় বাবার পক্ষেই রায় গিয়েছিল। মায়ের বার বার চাকরি ও বাসস্থান বদলানোর বিষয়টিও সেই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধেই শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যান তিনি।
মামলাটিতে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। নিমহ্যান্সে মনস্তত্ত্ববিদের সামনে এক সন্তান বাবার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করে। এর পর পকসো আইনে মামলা হয় এবং তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে উঠে আসে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে ওই মামলার বিচারাধীন অবস্থায় বাবার হাতে সন্তানদের কাস্টডি দেওয়া সমীচীন নয়।
বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। আদালত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করা ওই শিক্ষিকাকে দুই সন্তানের কাস্টডি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ব্রিটেনে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করানোর অনুমতি দিয়েছে।
তবে পকসো মামলায় বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও বিচারাধীন—এটি কোনও চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়।
