ওয়েব ডেস্ক : টানা বৃষ্টি (Rain) আর একের পর এক ধসে (Landslide) বিপর্যস্ত সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড়ের জনজীবন। গত ২৪ ঘণ্টায় সিকিমের (Sikkim) গ্যালশিং জেলার রিম্বি এলাকায় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০টি বাড়ি। শুক্রবার ভোরে ওই বাড়িগুলির মধ্যে দুটি সম্পূর্ণভাবে ভেসে যায়। রিম্বি ইয়ুকসোম মহকুমার অন্তর্গত এবং গ্যাংটক থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর নেই।
প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর পর বাড়িঘর, সম্পত্তি এবং গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ১৩ অগস্ট এলাকায় একটি ধস নেমেছিল। সেই ঘটনার পর প্রায় ৩৫টি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার ফের ধসের গতিপথ বদলে গিয়ে গ্রামের দিকে চলে আসে বলে জানা গিয়েছে।
আরও খবর : ইউপিআইতে ২ হাজারের বেশি টাকার রেল টিকিট কাটলেই বাড়তি ৫ টাকা? ১৫ অক্টোবর থেকে কী বদলাবে, জানুন
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিকিমের (Sikkim) মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক ছেরিং টি ভুটিয়া প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। রাতের দিকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরনোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
সিকিমের পাশাপাশি দার্জিলিং পাহাড়েও ধসের জেরে ব্যাহত হয়েছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ। গ্যাংটক থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বারদাংয়ে ধস নামায় রংপো ও গ্যাংটকের মধ্যে জাতীয় সড়ক ১০-এর সরাসরি যোগাযোগ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, কার্শিয়াং মহকুমার মহানন্দীর কাছে জাতীয় সড়ক ১১০-এ ধস নামায় যান চলাচল প্রভাবিত হয়েছে। ধসের মাটি টয় ট্রেনের লাইনের উপরেও জমে যাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে নিউ জলপাইগুড়ি-দার্জিলিং টয় ট্রেন পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
দার্জিলিং জেলায় টানা বৃষ্টিতে তাকদা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি দেওয়ালও ভেঙে পড়ে। ঘটনায় জিংলাম গ্রামের বাসিন্দা নির্মল তামাং আহত হন। তাঁকে পরে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দার্জিলিংয়ে ১৮৮ মিলিমিটার, কালিম্পংয়ে ১১৩ মিলিমিটার এবং শিলিগুড়িতে ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কার্শিয়াং ও মিরিকে প্রায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টির খবর মিলেছে। সিকিমের সোরেংয়ে ১২০ মিলিমিটার এবং গ্যালশিংয়ে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের কিছু এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
