ওয়েব ডেস্ক: জার্মানির দুই রাজ্যের নির্বাচনে একসঙ্গে দুই রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। বার্লিনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বামপন্থী দল ‘ডি লিঙ্কে’। অন্য দিকে, মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় প্রথম হয়েছে ডানপন্থী ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা এএফডি। দুই রাজ্যের ফলেই বড় ধাক্কা খেয়েছে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)।
বার্লিনে ডি লিঙ্কে পেয়েছে ২৫.৭ শতাংশ ভোট। ১৮.৮ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় সিডিইউ। এএফডি ১৬.৩ শতাংশ এবং গ্রিন পার্টি ১৪.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। কেন্দ্র-বাম এসপিডি-র ভোট নেমে হয়েছে ১২.১ শতাংশ—বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে দলটির এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ ফল।
এই ফলের ফলে ১৯৯০ সালে জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের পর প্রথম বার বার্লিনের মেয়রের পদে ডি লিঙ্কের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তার জন্য অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ডি লিঙ্কের শীর্ষ প্রার্থী এলিফ এরাল্প ফল ঘোষণার পর দলের সাফল্যকে স্বাগত জানান।
অন্য দিকে, মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় ৩৮.২ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছে এএফডি। এসপিডি পেয়েছে ৩৫.৫ শতাংশ। সবচেয়ে বড় ধাক্কা সিডিইউ-এর—মাত্র ৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দলটি পাঁচ শতাংশের নির্বাচনী বাধা পার করতে পারেনি। ফলে রাজ্য পার্লামেন্টে কোনও আসনও পায়নি সিডিইউ।
পরপর রাজ্য নির্বাচনে দলের ফল নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন মার্ৎস। সিডিইউ নেতৃত্বের বৈঠকের পর তিনি ফলাফলকে ‘বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করলেও পদে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
এদিকে এএফডি নেতা টিনো ক্রুপাল্লা মার্ৎসের পদত্যাগ দাবি করেছেন। ফলে জার্মানির রাজনীতিতে এই দুই রাজ্যের নির্বাচনের ফল নতুন করে ক্ষমতার সমীকরণ এবং মার্ৎসের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
