বনগাঁ: ২০১২ সালের জুলাই মাসের গোড়ায় বরুণকে খুন করা হয়েছিল। প্রায় এক দশক আগের ঘটনা। প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick) গ্রেফতার হওয়ার পরই বরুণ বিশ্বাস (Barun Biswas) হত্যা নিয়ে ফের মুখ খুলল তাঁর পরিবার। নিহতের দাদা ও দিদি আবারও দাবি করলেন, তাঁদের ভাইয়ের খুনের পিছনে প্রত্যক্ষ মদত ছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। এদিকে সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চ বরুন হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে ফের পথে নামার তোড়জোড় শুরু করেছে।
বরুণ খুন হয়েছেন ১১ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। ২০০০ সালে গাইঘাটার সুটিয়ায় একাধিক মহিলাকে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল। সেই ঘটনায় সুবিচারের দাবিতে প্রতিবাদী মঞ্চ গড়ে তুলেছিলেন বরুণ। পুলিশ গণধর্ষণ মামলার তদন্তে নেমে সুশান্ত চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করে। ২০১২ সালে ৫ জুলাই কলকাতা থেকে অন্য দিনের মতো গোবরডাঙা স্টেশনে ট্রেন থেকে নামতেই গুলিতে খুন হন জনপ্রিয় এবং প্রতিবাদী শিক্ষক বরুন বিশ্বাস। ওই ঘটনায় ৭২ জনকে সাক্ষী করে পুলিশ। আদালতে কয়েকজনের যাবজ্জীবন সাজা হয়। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, সুশান্ত জেলে বসেই বরুণকে খুন করার ছক কষে ছিল। তখনও বরুণের পরিবারের অভিযোগ ছিল, এই ঘটনায় জ্যোতিপ্রিয়ের হাত রয়েছে। এবার জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালু গ্রেফতার হতেই নতুন করে ওই ঘটনার তদন্তের দাবি উঠেছে। পরিবারের আরও দাবি, পুলিশ তদন্তের নামে কার্যত প্রহসন চালিয়েছেন।
বরুণের দাদা বলেন, ভাইকে ভাড়াটে লোক দিয়ে খুন করিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আমরা নতুন করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। সিবিআই তদন্ত করলেই, প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে। বরুণের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস বলেন, ভাই সুটিয়া এলাকায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, লড়াই করেছে। আর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বরুণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ভাইয়ের খুনের ঘটনায় জড়িত। তবে সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চ পরিবারের ওই দাবি মানতে নারাজ। মঞ্চের সভাপতি ননী পোদ্দার বলেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক যদি যুক্ত থাকবেন তবে কেন এফআইআরে তাঁর নাম নেই।
প্রমীলা আবার জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিবাদী মঞ্চের সঙ্গে তাদের আর কোনও সম্পর্ক নেই। মঞ্চের সদস্যরা শাসকদলের কাছে বিকিয়ে গিয়েছেন। শনিবার অবশ্য সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের লোকজন গাইঘাটায় বরুণের মূর্তির সামনে এক প্রতিবাদ সভা করে। সেখান থেকে ফের আন্দোলনের কথা ঘোষণা করা হয়।