কলকাতা: ধূপগুড়িতে মহকুমা হচ্ছে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার নবান্নে তিনি বলেন, উপনির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ধূপগুড়িকে মহকুমা করা হবে। তা হচ্ছে। সে ব্যাপারে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় খুশি ধূপগুড়ির (Dhupguri) বাসিন্দারা। ধূপগুড়ি নাগরিক মঞ্চ মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পাঁচদিনের সফরে আগামিকাল, মঙ্গলবার বিদেশে যাচ্ছেন। দুবাই হয়ে স্পেনে যাবেন তিনি। তার আগে সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, আমরা ভোটের আগে বলেছিলাম, ধূপগুড়ি মহকুমা শহর হবে। বানারহাটের কিছু অংশ, ধূপগুড়ি শহর এবং গ্রামীণ এলাকা নিয়ে এই মহকুমা হবে। ইতিমধ্যে তার কাজ শুরু হয়েছে। আমি বিদেশ থেকে ফিরে বাকিটা করে দেব।
উপনির্বাচনের প্রচারে এসে গত ২ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধূপগুড়ি মহকুমা হবে। আমি দেখছি, দেখব, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হবে, এসব বলার লোক নই। কথা দিয়ে গেলাম, কথা রাখবই। তৃণমূল নেতার এই ঘোষণায় সোদিনই খুশির ঢল নামে ধূপগুড়িতে। মিষ্টি বিলি হয়, আবির খেলা হয়।
আরও পড়ুন: বোসের গোপন চিঠি নিয়ে বিশদে কিছু বললেন না মমতা
বিরোধীরা অবশ্য অভিষেকের এই ঘোষণাকে কটাক্ষ করেন। বিরোধী নেতারা বলেন, অভিষেক ঘোষণা করার কে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী নন, প্রশাসনের কেউ নন। দশ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী ধূপগুড়ি মহকুমা হবে বলে গল্প শুনিয়েছেন। শুধু তাই নয়। নির্বাচনী প্রচারে এসে তৃণমূল নেতা এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন বলে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও করেন।
ভোটের আগে মহকুমার দাবিতে ধূপগুড়িতে আন্দোলন হয়। ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চ, ব্যবসায়ী সমিতি মহকুমার দাবিতে পথে নেমেছিল। এদিন নাগরিক মঞ্চের যুগ্ম সম্পাদক বিভাস চক্রবর্তী বলেন, আমাদের বলার কোনও ভাষা নেই। মুখ্যমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ধূপগুড়ির মানুষ আজ খুব খুশি।