কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি থেকে গ্রেফতার অসিত সরদার (Asit Sardars)। ছাত্রের মৃত্যুর পরের দিনই বাড়ি ফেরেন অসিত সরদার। বুধবার সেই যাদবপুরের প্রাক্তনীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। যাদবপুর-কাণ্ডে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নজরে আছেন বেশ কয়েকজন। এদের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। বুধবারই ধৃত ছ’জনকে তোলা হয়েছে আদালতে। হেফাজতে পাওয়ার চেষ্টা করবে পুলিশ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বাসিন্দা অসিত সরদার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিভাগের ছাত্র। পাশও করে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি হস্টেলে থাকতেন। তাঁর পরিবার বলছে, পড়াশোনার জন্যও সেখানে ছিলেন। বুধবার অসিতের সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন আরও পাঁচ জন। যাঁদের মধ্যে তিন জন বর্তমান পড়ুয়া এবং বাকিরা প্রাক্তনী। সবাই মেন হস্টেলেই ছিলেন।
আরও পড়ুন: যাদবপুরকাণ্ডে ডিন অফ স্টুডেন্টস ও রেজিস্ট্রারকে তলব
অসিতের মায়ের দাবি, তাঁর ছেলে নির্দোষ। বাড়িতেই মাঝে মধ্যেই আসত সে। তাঁর ছেলে জানিয়েছেছিল, কটা বই হারিয়ে গিয়েছে বলল। ওই সব জমা দিতে কলকাতা গিয়েছিল। ঘটনার দিন পর বাড়ি ফিরে এসেছিল। বাড়িতে সে জানিয়ে ছিল তাকে যাদবপুর থানায় ডাকা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ এসে অসিতকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার সঙ্গে অসিত কোনও ভাবেই যুক্ত নয় দাবি অসিতের মা সুমিত্রা সরদার।
অসিতের মায়ের আরও দাবি, তাঁকে যে পুলিশ ডেকে পাঠিয়েছে তা ওকে দেখে বুঝতেই পারেননি। গত কাল বাড়ি এল। জানিয়েছেন সে দিন রাতের কথাও বাড়িতে জানিয়েছিলেন। মৃত ছাত্রের গল্পও করেছেন পরিবারের সঙ্গে করেন। ওই ঘটনার সময় ছেলে রুমে ছিল বলে জানিয়েছে। ঘটনার পর কী ভাবে সবাইকে হস্টেল ছাড়তে হয় সে কথাও বলেছিল। এর বেশি তো কিছু জানি না। ও কিচ্ছু জানে না বলল।
যাদবপুরকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া মহম্মদ আসিফ আনসারির মা ইসরত পারভিনের দাবি, প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়াকে সাহায্য করতে গিয়ে ফেঁসে গিয়েছেন তাঁর ছেলে। আসিফের বাবার বলেন, ছেলের গ্রেফতারির কথা শোনার পরই বারবার জ্ঞান হারাছেন তার স্ত্রী। কী কবর বুঝতে পারছিনা। মহম্মদ আসিফ আনসারির যাদবপুরের ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়া। বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের উত্তর আসানসোলে রেলপাড় কেটি রোডে। আসিফের বাবা আফজল কাপড় ফেরি করেন। মা ইসরত গৃহবধূ। তিন ছেলে মেয়েকে কষ্ট করে বড় করেছে বলেন আসিফের মা-বাবা। আসিফের বাবা-মা জানান, ঘটনার দু দিন পর আসানসোলের বাড়িতে এসেছিল তাঁদের ছেলে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোন করে তাঁকে একাধিক বার ডাকা হয়। তাই বাড়ি এসেও পরে কলকাতা চলে যান। ছেলে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে ও কোনও ভাবে যুক্ত নয়। ওই ছেলেটি যখন ভয় পেত, আমার ছেলে বন্ধুর মতো ওর পাশে দাঁড়িয়েছিল। ওকে ফাঁসানো হয়েছে।