কলকাতা: ভূগর্ভস্থ (Groundwater) জল ব্যবহারের অভ্যাস মানুষের বহুদিনের। খাওয়া, স্নান, ধোওয়া থেকে সেচের কাজ মাটির নীচের জল দিয়েই চলে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন সমস্ত জল নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছেই। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, ভূগর্ভস্থ জল নিষ্কাশনের ফলে পৃথিবীর অক্ষ (Earth’s Axis) তার অবস্থান থেকে সরে গিয়েছে। বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ২১৫০ গিগাটন ভূগর্ভস্থ জল তোলা হয়েছে এবং প্রতি বছর এই গ্রহের অক্ষ ৪.৩৬ সেন্টিমিটার করে পূর্ব দিকে সরে গিয়েছে।
ওই গবেষণা এও বলছে, সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাওয়ার জন্যও দায়ী মাটির নীচের জল কমে যাওয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সিওল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কি-ওয়েওন সিও, তাইওয়ান জিওন, জায়ে-সেউং কিম, কুখয়ুন ইউম, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডংরিওল রিউ, কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জুইয়ং ইওম, হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির জিয়ানলি চেন, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের ক্লার্ক আর উইলসন একসঙ্গে এই গবেষণা করেছেন। তাঁরা বলছেন, পৃথিবীর অক্ষের সরে যাওয়া মানবজীবনে এখনও তেমন প্রভাব না ফেললেও মানুষ এতটাই জল তুলে নিয়েছে যে তা সমুদ্রের জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: China | চিনে বিয়েতে অনীহা বাড়ছে, সমীক্ষা দেখলে আঁতকে উঠবেন
পৃথিবী এক কাল্পনিক অক্ষকে বেষ্টন করে ঘোরে যাকে বলা হয় আহ্নিক গতি। এই অক্ষ উত্তর মেরু (North Pole) থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ছুঁয়ে দক্ষিণ মেরু (South Pole) পর্যন্ত বিস্তৃত। লাট্টুর মাঝখান থেকে যেমন একটা পেরেক থাকে ঠিক সেরকমই ব্যাপার। এতদিন বিজ্ঞানীরা জানতেন, মেরু এবং অক্ষ প্রাকৃতিক নিয়মে সরতে পারে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘পোলার মোশন’। যেমন, পৃথিবীর ম্যান্টেলে (ভূপৃষ্ঠের নীচ থেকে কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত অংশ) ধীর গতিতে ঘুরতে থাকা পাথর ভরের পরিবর্তন করে যার ফলে আবর্তনের অক্ষের অবস্থান বদল হয়।
পোলার মোশনের জন্য এছাড়াও দায়ী মহাসমুদ্রের স্রোত, এমনকী হারিকেনও। এবার জানা গেল, মানুষও এর জন্য দায়ী। এই গবেষণা করতে গিয়ে সিও এবং তাঁর দল ১৭ বছরের তথ্য এবং কম্পিউটার মডেল নিয়ে নিরীক্ষায় বসেন। পৃথিবীর আবর্তনের অক্ষে কী কী বিষয় প্রভাব ফেলছে। প্রথম দিকে তাঁরা তাঁদের অনুমানের সঙ্গে ফলাফল মেলাতে পারছিলেন না। বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, সমুদ্রের তলদেশের চাপ, কৃত্রিম রিজার্ভার ইত্যাদি দিয়েও হিসেব মেলানো যাচ্ছিল না। হিসেব মিলল ভূগর্ভস্থ জলের বিষয়টা দেখতেই।