কলকাতা: বুধবার রাত পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন পঞ্চায়েত ভোটে কোনও বুথকেই স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করতে পারেনি। আগামিকাল, বৃহস্পতিবার কমিশন এ ব্যাপারে তাদের মতামত জানাবে আদালতে। এমনটাই রাতে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। বিরোধীরা এতে অশনি সংকেত দেখছে। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী যাতে আনতে না হয়, তার জন্যই কমিশনের এই কৌশল। বিরোধী নেতারা একযোগে বলছেন, কমিশন পঞ্চায়েত ভোট নির্বিঘ্নে হোক, এটাই চায় না। তারা রাজ্য সরকারের হাতের পুতুল হয়ে কাজ করছে।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট বলেছিল, অন্তত সাতটি জেলাকে স্পর্শকাতর বলে ঘোষণা করতে হবে। সেই জেলাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দরকার হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তও কমিশনকে নিতে হবে। আদালত এই প্রসঙ্গেই বিধাননগর পুরসভার গত নির্বাচন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসা, রামনবমী এবং হনুমান পুজোকে ঘিরে অশান্তি সহ বেশ কিছু ঘটনার কথা কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, এই সব ক্ষেত্রে আদালত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা বলেছিল।
আরও পড়ুন: Panchayat Election 2023 | Alipurduar | আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলে ভাঙন, দলবল নিয়ে পাসাং লামা কংগ্রেসে
গত পাঁচদিন ধরে মনোনয়নপত্র পেশ করাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক গোলমাল হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নে বাধা দিচ্ছে শাসকদলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা। কোথাও কোথাও সিভিক ভলান্টিয়ারদের খাঁকি পোশাক পরিয়ে পুলিশ সাজিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চলছে মারদাঙ্গা। অথচ কমিশন নীরব দর্শক। তারা সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের সতর্ক থাকতে বলেই দায়িত্ব শেষ করে দিচ্ছে। গতকাল কমিশনের ডাকা সর্বদল বৈঠকে বিরোধী নেতাদের তোপের মুখে পড়ে কমিশনার নীরবতা অবলম্বন করে থাকেন।
বুধবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মনোনয়ন দিতে না পারা প্রচুর প্রার্থীকে নিয়ে কমিশন দফতরে হাজির হন। তাঁদের দাবি, এই প্রার্থীদের কমিশন দফতরেই মনোনয়নের ব্যবস্থা করতে হবে। শুভেন্দুর হুমকি, আগামী কাল হাজার হাজার মানুষ কমিশন দফতরে লাইন দেবেন। তাঁদের মনোনয়ন পেশের ব্যবস্থা কমিশনকে করতে হবে। বিরোধীদের আরও অভিযোগ, কমিশন আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে। বৃহস্পতিবার বিজেপি এসব নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।