কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোটের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে অব্যাহত রঙবদল। উত্তর ২৪ পরগনা, বহরমপুর এবং হাওড়ার উলুবেড়িয়াতে দেখা মিললো সেই দৃশ্যের। পঞ্চায়েত ভোট এগিয়ে আসছে বিভিন্ন জায়গা তে রাজনৈতিক শিবির বদলের ছবি দেখা যাচ্ছে, কখনও তা শাসকদলের দিকে কখন বিরোধীদের দিকে সব মিলিয়ে সরগরম রাজনীতি।
রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার ভাঙড়ের কাঁঠালিয়ার এক কর্মীসভা থেকে ১০০ জন আইএসএফ কর্মী যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। সওকাত মোল্লার হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন তাঁরা। আইএসএফ ছেড়ে কেন তৃণমূলে যোগদান করলেন তাঁরা এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানিয়ে তাঁরা বলেন, আইএসএফের সঙ্গে থাকলে এলাকার কোন উন্নয়ন করতে পারবো না। তাই তৃণমূলে যোগদান করেছি। তাঁরা জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে সামনে রেখে দল করব। এ প্রসঙ্গে সওকাত মোল্লা বলেন, আগামিদিনে দেখবেন কোনও লোকই আর আইএসএফের সঙ্গে থাকবে না। সবাই তৃণমূলের ছত্র ছায়ায় চলে আসবে। মানুষ এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূল সব সময় থাকবে। এদিকে আইএসএফ নেতা রাইনুর হক বলেন এনিয়ে বলেন, আইএসএফ ছেড়ে কেউই তৃণমূলে যায়নি। যারা তৃণমূল কংগ্রেস করতো ঐ এলাকায় তারাই আবার লোক দেখানো করে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে। তাঁর দাবি, ভাঙড়ের মানুষ আইএসএফের সঙ্গে আছে।
এদিকে, হাওড়া বাগনানে বিজেপি ও সিপিআইএমে বড়সড়ো ভাঙ্গন ধরল। রবিবার বাগনান কেন্দ্রের হল্যান গ্রাম পঞ্চায়েত, ওড়ফুলি ও শরৎ তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় থেকে প্রায় আড়াইশো পরিবার বিজেপি ও সিপিআইএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করেছে। হাওড়া গ্রামীণের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বাগনানের বিধায়ক অরুনাভ সেন অন্যদল থেকে তৃণমূলে আসা কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করেছেন বলেই জানান দলত্যাগী ওই কর্মীরা।
এদিকে আবার পঞ্চায়েত ভোটার আগে বহরমপুরের দৃশ্য খানিকটা আলাদা। রবিবার নওদা ব্লকের মধুপুর অঞ্চলের বেশ কিছু তৃনমুল কর্মী সমর্থক দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করেন। বহরমপুর দলীয় কংগ্রেস কার্যালযা থেকে ঠান্ডার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন অধীর চৌধুরী।