কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে দিন ঘোষণা পঞ্চায়েত নির্বাচনের। আগামী ৮ জুলাই রাজ্যে হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন, ফলাফল ১১ জুলাই। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা সাংবাদিক বৈঠকে জাানান, এবারও এক দফায় হতে চলেছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোট। কাল থেকে মনোনয়ন শুরু হবে, শেষ হবে ১৫ জুন। ২০ জুন মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই আদর্শ আচরণবিধি চালু হয়ে গেল। কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও এ বিষয়ে কিছু ভাবা হয়নি। পরিস্থিতি বিচার করে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে জানানো হবে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে দ্বিস্তরীয় এবং রাজ্যে বাকি সর্বত্র ত্রিস্তরীয় ভোট হবে।
কমিশনার আরও জানান, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন মহল থেকে পরামর্শ এসেছে সেটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করবে। একইসঙ্গে পুলিশের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেইসঙ্গে মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি গোটা পরিস্থিতি বিচার করেই এই দিন ঠিক করেছেন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: Rujira Banerjee | ৪ ঘণ্টা পর সিজিও ছাড়লেন রুজিরা, কুলুপ মুখে
মাত্র গতকালই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিযুক্ত হয়েছেন রাজীব সিনহা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে তৎপর হন। দফায় দফআয় রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই আমলা। ভোটের প্রাথমিক প্রস্তুতি অবশ্য সৌরভ দাস কমিশনার থাকাকালীনই সারা হয়ে গিয়েছিল।
রাজ্যের নতুন নির্বাচন কমিশনার কে হবেন তা নিয়ে গত এক মাস ধরে টানাপড়েন চলছিল। রাজ্য সরকার শুরুতেই রাজীব সিনহার নাম পাঠিয়েছিল রাজভবনে। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস তাঁর সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য চেয়ে পাঠান। একই সঙ্গে নবান্নকে দ্বিতীয় নাম পাঠাতে বলে। নবান্ন দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে প্রাক্তন পূর্তসচিব অজিত রঞ্জন বর্ধনের নাম পাঠায়। তা নিয়েও আপত্তি তুলে রাজভবন তৃতীয় নাম চেয়ে পাঠায়। নবান্ন অবশ্য তৃতীয় কারও নাম পাঠায়নি। অবশেষে রাজভবন রাজীব সিনহার নামেই সিলমোহর দেয়। বুধবারই তিনি দায়িত্ব গ্রহণকরেন।