ওয়েব ডেস্ক : বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখে অভিযুক্তের জামিনের বিরোধিতা করার প্রবণতা নিয়ে পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র (Maharastra) সরকারের তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি শীল নাগুর-র বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতির কারণে কোনও অভিযুক্তকে অনির্দিষ্টকাল কারাগারে আটকে রাখা যায় না।
পাঞ্জাবের (Punjab) একটি মামলায় নির্ধারিত সময়ে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে না নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক সিনিয়র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত জরিমানা ধার্য করার নির্দেশ দেয় বেঞ্চ। যদিও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সেই নির্দেশ কার্যকর করা স্থগিত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।
আরও খবর : তেলঙ্গানায় শিউড়ে ওঠা ঘটনা, এক রাতেই ৬ জনের……
শুনানিতে উঠে আসে, ২০২২ সালে গ্রেফতার হওয়া বিদেশি নাগরিক কেলভিন চিনডোজিয়ে ওকরোর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় চার বছর কেটে গেলেও, চার্জশিটে থাকা ৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দু’জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার জামিনের আবেদনেও মহারাষ্ট্র হাইকোর্টে স্বস্তি না পেয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শুনানির সময় বিচারপতি আমানুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, চার বছর ধরে বিচার এগোয়নি, অথচ রাজ্য সরকার নিয়মিত জামিনের বিরোধিতা করছে, এর দায় কে নেবে?
যদিও এই মামলায় অভিযুক্তকে জামিন দিতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court), তবু বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকারকে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির কথাও বলেছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জন্য কোনও অভিযুক্তের ব্যক্তিস্বাধীনতা অনির্দিষ্টকালের জন্য খর্ব করা সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী।
দেখুন অন্য খবর :
