ওয়েব ডেস্ক: ভূমিকম্পের (Earthquake) ধাক্কায় মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে বহুতল ভবন। বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান তাই বহু দিন ধরেই নতুন নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘এয়ার দানশিন’ (Air Danshin) প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়িটি মাটি থেকে কয়েক সেন্টিমিটার উপরে উঠে যায়, ফলে কম্পনের বড় অংশ সরাসরি ভবনের গায়ে পৌঁছাতে পারে না।
জাপানের Air Danshin Systems Inc. সংস্থার তৈরি এই প্রযুক্তিতে বাড়ির ভিত্তির নীচে বিশেষ এয়ার চেম্বার বসানো হয়। বাড়ির ভিতরে থাকা সিসমিক সেন্সর ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করামাত্র সংকুচিত বাতাস ওই চেম্বারে প্রবেশ করানো হয়। তার ফলে গোটা বাড়িটি প্রায় ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উপরে উঠে যায়। কম্পন থেমে গেলে বাড়িটি আবার আগের অবস্থানে নেমে আসে।
বিদেশযাত্রা আরও নিরাপদ, দেশে ধাপে ধাপে চালু ই-পাসপোর্ট – KolkataTV
সংস্থার দাবি, এই ব্যবস্থা ভূমিকম্পের তরঙ্গ অনুভূত হওয়ার এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে সক্রিয় হতে পারে। এমনকি বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্যাটারি ব্যাকআপের সাহায্যে প্রযুক্তিটি কাজ করতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই জাপানের প্রায় ৯০টি বাড়ি ও ভবনে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আবাসিক ভবনের পাশাপাশি গবেষণাগার ও শিল্প কারখানার জন্যও আলাদা সংস্করণ তৈরি করেছে সংস্থাটি।
তবে এই প্রযুক্তিরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলকভাবে হালকা বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে এটি কার্যকর হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী বা বিভিন্ন দিক থেকে আসা জটিল কম্পনের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এখনও পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। তাই প্রযুক্তিটিকে আরও উন্নত করার কাজ চলছে। তবুও ভূমিকম্প মোকাবিলায় আধুনিক প্রকৌশলের এই অভিনব উদ্যোগ বিশ্বজুড়েই কৌতূহল তৈরি করেছে।
