কলকাতা: ‘অ্যাকশন’ মোডে ইডি। শনিবার সাতসকালে মদন মিত্রের (Madan Mitra) বাড়িতে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দক্ষিণেশ্বরের পাশাপাশি বেলঘড়িয়ার মদন মিত্রের নামি আবাসনে তল্লাশি ইডির। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipality Recruitment Corruption) জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের (Ayan Sil) কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মদন মিত্রের বাড়িতে এই অভিযান। সকাল থেকে বিধায়ক মদন মিত্রের কামারহাটি, ভবানীপুর, জোকা, সন্তোষপুর, বেলেঘাটা এবং দক্ষিণেশ্বর-সহ একাধিক ঠিকানায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি।
অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরিতে রহস্যময় ‘MM’ (এমএম) নাম লেখা খাতার হদিশ পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়ান্দারা। সেই ‘MM’ সূত্র ধরেই শনিবার সকাল থেকে বিধায়ক মদন মিত্রের কামারহাটি, ভবানীপুর, জোকা, সন্তোষপুর, বেলেঘাটা এবং দক্ষিণেশ্বর-সহ একাধিক ঠিকানায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি।জানা গিয়েছে, সকাল ৬ টা থেকে ইডি তল্লাশি চালাছে মদন মিত্রের আটটি জায়গায়। বেলঘড়িয়া মদন মিত্রের দুটি বহুতল আবাসনে সকাল ছটা থেকে ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি শুরু করেছে। দক্ষিণেশ্বরে টি এন বিশ্বাস রোডে বহুতল আবাসন এখানে তিনটে গাড়িতে ইডির আধিকারিকেরা আসে এবং একই সঙ্গে বেলঘড়িয়ার ৩৫ নম্বর বিটি রোড অসওয়াল কান্ট্রি বহুতলে চারটি গাড়ি করে ইডির আধিকারিকেরা মদন মিত্রের ফ্ল্যাটে তল্লাশিতে আসে। এছাড়াও বেলঘড়িয়ার দুটি মদন মিত্রের ফ্ল্যাটে একসঙ্গে রেড চলছে। জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মদন মিত্রের বাড়িতে এই অভিযান। জানা গিয়েছে, বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে রয়েছেন বিধায়ক। সেখানে সকাল ৬টা থেকে চলছে তল্লাশি।
আরও পড়ুন: অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে ঢুকল পুলিশ, খবর পেয়ে গেলেন মমতা
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন পুরসভায় অন্তত ১২৫টিরও বেশি বেআইনি ও ভুয়ো নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে মদন মিত্রের।মদনের বিরুদ্ধে একাধিক পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার পরিবর্তে তিনি ঘুষও নিয়েছেন বলেও অভিযোগ। সেই তদন্তের সূত্রেই শনিবারের তল্লাশি অভিযান। ইডি সূত্রে খবর, বিধায়কের বাড়ি থেকে একাধিক নথি ও ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে।অভিযোগ, তার জন্য ঘুষ নিয়েছিলেন কখনও নগদ টাকায়, কখনও আবার সোনাদানার মাধ্যমে। তবে মদন সরাসরি এই ঘুষ নেননি বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিবিআই অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁর সূত্র ধরেই পুরসভায় দুর্নীতির বিষয়টিও প্রকাশ্যে আসে।
