কলকাতা: পঞ্চায়েত (WB Panchayat) স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাজ্য জুড়ে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত পঞ্চায়েত কর্মীদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মৃত্তিকা ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। একইসঙ্গে রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে নিয়োগের বিষয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী।
এদিন দিলীপ ঘোষ জানান, যেসব পঞ্চায়েত কর্মী টানা তিন বছর ধরে একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে বদলি করতে হবে। এ বিষয়ে সমস্ত জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১১০০ এবং চলতি জুন মাসের মধ্যেই তাঁদের বদলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সব গ্রাম পঞ্চায়েতে নিয়মিত অডিট চালুর কথাও ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এতদিন অডিটের কাজ অনিয়মিতভাবে হলেও এবার নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা সম্পন্ন করা হবে, যাতে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ কমে।
আরও পড়ুন: ওয়াটার মেট্রোয় যুক্ত হচ্ছে কলকাতা, নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
পঞ্চায়েত স্তরে কর্মীসংকট দূর করতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বর্তমানে মোট ১১,১৫৪টি পদ খালি (Panchayat Vacancy 2026) রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০টি এবং জেলা ও মহকুমা স্তরে ৫৫৮টি পদ শূন্য। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬,৫৩৬টি শূন্যপদে নিয়োগের (Panchayat Recruitment 2026) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমস্ত নিয়োগ নিয়ম মেনে পরীক্ষার মাধ্যমেই করা হবে।
গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প ইতিমধ্যেই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দও আসতে শুরু করেছে। গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ২,৭৯০ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির জন্য প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানান তিনি।
কর্মসংস্থান ক্ষেত্রেও নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, জুন মাস পর্যন্ত রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্প চলবে। এরপর জুলাই থেকে চালু হবে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘জিরাম-জি’। এই প্রকল্পে বছরে প্রায় ১২,৮৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যে নতুন করে ১ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি গোষ্ঠীকে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
দেখুন আরও খবর:
