ওয়েব ডেস্ক: আর মাত্র এক ধাপ। তারপরই ইতিহাস। পরপর দু’বার আইপিএল (IPL 2026) ট্রফি জয়ের হাতছানি এখন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bengaluru) সামনে। দীর্ঘ আঠারো বছরের অপেক্ষার পর গতবার প্রথমবার আইপিএল ট্রফি ছুঁয়েছিলেন বিরাট কোহলিরা (Virat Kohli)। এবার সেই সাফল্য যে কোনওভাবেই কাকতালীয় ছিল না, সেটাই প্রমাণ করার মঞ্চ আহমেদাবাদের ফাইনাল (IPL 2026 Final)।
তবে কাজ মোটেই সহজ নয়। কারণ, প্রতিপক্ষ গুজরাত টাইটান্সও (Gujarat Titans) এ বারের আইপিএলে সমান দুর্ধর্ষ ক্রিকেট খেলেছে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে আরসিবির কাছে হারলেও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শুভমন গিলের (Shubman Gill) দল। রবিবার ট্রফি জিততে পারলে গুজরাতের ঝুলিতেও আসবে দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা।
ফাইনাল ঘিরে বিরাট কোহলির আবেগ যেমন রয়েছে, তেমনই নজর থাকবে দুই তরুণ অধিনায়কের লড়াইয়েও। একদিকে আরসিবির রজত পাতিদার (Rajat Patidar), অন্যদিকে গুজরাটের শুভমন গিল। এ বারের আইপিএলে দুই অধিনায়কই নিজেদের নেতৃত্ব এবং ব্যাট হাতে অসাধারণ ছাপ ফেলেছেন।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রান করে কার্যত একাই গুজরাতকে হারিয়েছিলেন পাতিদার। অন্যদিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন শুভমন। ফলে রবিবারের ফাইনালে দুই অধিনায়কের ব্যাটই হতে চলেছে ম্যাচের বড় আকর্ষণ।
আরও পড়ুন: আইপিএল জিতলে কত টাকা পাবে শীর্ষ চার দল?
ফাইনাল হচ্ছে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে, যা গুজরাত টাইটান্সের ঘরের মাঠ। স্বাভাবিকভাবেই সেই সুবিধা কিছুটা হলেও পাচ্ছে শুভমনের দল। যদিও প্রত্যাশার বাড়তি চাপ নিতে নারাজ গিল। প্রাক্-ফাইনাল সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “আহমেদাবাদে খেললে কিছুটা সুবিধা তো থাকেই। মাঠ এবং পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের ধারণা রয়েছে। তবে ফাইনাল মানেই মানসিক লড়াই। যে দল চাপটা ভালোভাবে সামলাতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত জিতবে।”
একইসঙ্গে এই ফাইনাল শুভমনের কাছে ব্যক্তিগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে ফের জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়েও রয়েছেন তিনি। এ বারের আইপিএলে ইতিমধ্যেই ৭২২ রান করেছেন গিল এবং সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। ফলে ফাইনালে বড় ইনিংস খেলতে পারলে জাতীয় নির্বাচকদের নজর আবার তাঁর দিকে ফিরতেই পারে।
অন্যদিকে রজত পাতিদারের সামনে রয়েছে বিরল নজির গড়ার সুযোগ। মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রোহিত শর্মার পর তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে পরপর দু’বার আইপিএল জেতার হাতছানি তাঁর সামনে। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, দলগত সাফল্যেই জোর দিচ্ছেন আরসিবি অধিনায়ক। পাতিদার বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি কে কী করেছে। নিজের খেলাটাই খেলতে চাই। জীবনে উত্থান যেমন দেখেছি, তেমনই পতনও দেখেছি। তাই সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।”
এখন দেখার, আহমেদাবাদের মহারণে শেষ হাসি হাসবে কারা। বিরাট কোহলির আরসিবি কি টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি ছুঁয়ে ইতিহাস গড়বে, নাকি শুভমন গিলের গুজরাত নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নতুন অধ্যায় লিখবে— উত্তর মিলবে রবিবার রাতেই।
দেখুন আরও খবর:
