ওয়েব ডেস্ক : নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে সবংয়ে ফিরেই সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়া (Manas Bhunia)। সোমবার দুপুরে সবংয়ের দলীয় কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট স্বীকার করে নিলেন, “হারের জন্য আমিই দায়ী।” তবে একইসঙ্গে দলের অন্দরের অন্তর্ঘাত নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘদিনের এই সবং বিধায়ক আবেগঘন সুরে বলেন, “সবংয়েই রাজনীতি করেছি, সবংয়েই মরব।” কিন্তু সেই আবেগের মাঝেই উঠে আসে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)-এর প্রতি অভিমান। মানসবাবুর দাবি, ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে তাঁর যে অবদান ও কৃতিত্ব ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কোনদিন স্বীকৃতি দেননি।।
আরও খবর : মাথা কামিয়ে হাফ প্যান্ট-স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে হাওড়ার ‘ডন’কে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ
এই আবহেই মেদিনীপুরের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দুকে “মেদিনীপুরের সন্তান” আখ্যা দিয়ে মানস ভুঁইয়া বলেন, “ছাত্র-যুব রাজনীতি করে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। ওর জন্য মেদিনীপুরবাসী হিসেবে আমরা গর্বিত।” শুধু শুভেন্দুই নন, নবনির্বাচিত বিধায়ক অমল পণ্ডার প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যগুলিই এখন নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে নিয়েও সরব হন মানস ভুঁইয়া। তিনি বলেন, “অভিষেক দলের ঊর্ধ্বে নয়।” পাশাপাশি কটাক্ষ করে জানান, এখন অনেকেই অভিষেকের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন, অথচ একসময় তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্যই নেতারা অপেক্ষা করতেন। সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। দলবদলের জল্পনা প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বললেও মানস ভুঁইয়া স্পষ্ট করেন, “যা করব, সবাইকে জানিয়েই করব। কাপুরুষের মতো আড়াল থেকে কিছু করব না।”
দেখুন অন্য খবর :
