কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে (India-Bangladesh Border) নিরাপত্তা জোরদার করতে বিএসএফ-কে (BSF) জমি হস্তান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং রাজ্য প্রশাসন ও বিএসএফের সমন্বয় নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে সিএএ (CAA) নিয়ে পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।
নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরা এবং সীমান্তবর্তী জেলার প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা। বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, সীমান্ত জেলাগুলির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করার কথা থাকলেও আগের সরকারের আমলে সেই প্রক্রিয়া কার্যত অচল ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসওপি মেনে সীমান্ত এলাকার জেলাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের সরকারের আমলে এমন একটি বৈঠকও হয়নি। আমাদের সরকার আসার পর আমরা একাধিক বৈঠক করেছি।”
আরও পড়ুন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি কত? চরমে টানাপোড়েন, কী বলল তৃণমূল কংগ্রেস?
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে শুধু জেলা স্তরেই নয়, প্রয়োজন হলে স্থানীয় থানা স্তরেও এই ধরনের সমন্বয় বৈঠক করা হবে। প্রশাসন ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বৈঠকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং প্রত্যর্পণ নিয়েও কড়া অবস্থান নেয় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সক্রিয়ভাবে কার্যকর করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে আসা ব্যক্তিদের কোনওরকম হেনস্থা করা হবে না। তবে ২০২৫ সালের পর অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে রাজ্য পুলিশ। এরপর বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণ ও নজরদারির কাজও আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেখুন আরও খবর:
