জলপাইগুড়ি: শনিবার সন্ধ্যার আচমকা কালবৈশাখীর (Kalbaisakhi In Dooars) দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ল ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঝড়ের (Storm) তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বানারহাট, নাগরাকাটা এবং ধূপগুড়ি ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চল। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় শিকড়সহ উপড়ে পড়েছে একাধিক বড় গাছ (Trees Uprooted), ছিঁড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের তার (Electricity Affected)। ফলে শনিবার রাত থেকেই বহু গ্রাম অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। ঝড়ের জেরে বানারহাট-চামুরচি রোড সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গাছ পড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। নাগরাকাটা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর ফলে ব্যাহত হয়েছে জরুরি পরিষেবাও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ঝড়ের তীব্রতায় বহু কাঁচা ও টিনের বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। কোথাও বসতবাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতি হয়েছে, আবার কোথাও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির উপর গাছ পড়ে সেগুলি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পানীয় জলের সমস্যাতেও পড়েছেন বহু বাসিন্দা। শনিবার রাত থেকে তিন ব্লকের একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ভোটে নজির বাংলার! স্বাধীনতার পর সর্বাধিক ভোটদানের রেকর্ড ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে
রবিবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। বিদ্যুৎ দফতর, পূর্ত দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) কর্মীরা যৌথভাবে গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় নতুন বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কাজও চলছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসেব সংগ্রহ করা হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং আজ সন্ধ্যার মধ্যেই অধিকাংশ এলাকায় সংযোগ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝড়ের তাণ্ডবে বহু পরিবারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং প্রশাসনের তরফে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।
দেখুন আরও খবর:
