ওয়েব ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশবাসীকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এছাড়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার (Foreign exchange reserves) বাঁচাতে জ্বালানি তেলের (fuel oil) ব্যবহার কমানোর অরোধ করেছেন তিনি। রান্নার তেলও কম ব্যবহারের আর্জি জানিয়েছেন। মূলত, পেট্রল (Petrol), ডিজেল (Diesel), রান্নার গ্যাস (LPG Gas), ভোজ্য তেল, সোনা (GOLD), তামা, রাসায়নিক সার বিদেশ থে আমদানি করতে হয় ভারতকে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। আর বিশ্বে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে এই পণ্য আমদানির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তাই এই পণ্যগুলি নিয়ে ‘সংযমী’ হওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রবিবার তেলঙ্গানার সেকেন্দরাবাদে এক সভায় বক্তৃতার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) কথায়, করোনাকালে বাণিজ্যের সরবরাহ নিয়ে সঙ্কটের মুখে পড়েছিল ভারত। তার পরে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তার ফলে খাদ্য, জ্বালানি এবং সারের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তা থেকে বেরনোর চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত সরকার। কিন্তু এর মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বে। তেল, গ্যাস, ডিজেল অন্যান্য দেশ থেকে আনতে হয়, কিন্তু যুদ্ধের কারণে এগুলির দাম বেড়েছে। মোদি আরও বলেছেন, “দেশের জন্য মৃত্যুবরণই শুধু দেশভক্তি নয়। দেশের জন্য বাঁচা এবং দেশের প্রতি কর্তব্যপালন করাটাও দেশভক্তি।”
দেশবাসীকে পেট্রল-ডিজেল (Petrol-Diesel) নিয়ে ‘সংযমী’ হওয়ার বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কম করতে হবে। গাড়ি বাদ দিয়ে মেট্রো ব্যাবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর একান্ত গাড়িতে যেতে হলে ‘কারপুল’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মূলত, প্রধানমন্ত্রীর কথায়, জ্বালানি তেল কম ব্যাবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এর আগে তেলঙ্গনায় এক সরকারি কর্মসূচিতে গিয়ে রান্নার গ্যাসের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংযমী হওয়ার আর্জি জানান তিনি।
আরও খবর : পেট্রল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাস ব্যবহারে ‘সংযমী’ হতে আর্জি প্রধানমন্ত্রীর!
করোনার সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া গোটা বিশ্বের মানুষ ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home) বা বাড়িতে বসে কাজ করেছিল। বর্তমানে বিশ্বের পরিস্থিতির কারণে তেমনই বাড়িতে বসে কাজ করার অনুরোধ জানালেন মোদি। বলেন, আমরা করোনাকালে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করেছি। অনলাইন মিটিং, ভিডিয়ো কনফারেন্স করেছি। তা যদি আবার শুরু করা যায় তাহলে দেশের মানুষের উপকার হবে। বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানোর উপর জোর দেওয়ার কথাও জদানিয়েছেন তিনি।
রান্নায় তেল (Cooking Oil) খাওয়াও কমানোর আবেদন জানিয়েছেন মোদি। বলেন, অন্যান্য দেশ থেকে ভোজ্যতেল আমদানি করতে গেলে অনেক বিদেশি মুদ্রা খরচ হয়। ভোজ্যতেল ১০ শতাংশ কমানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তেল খাওয়া কমালে তা দেশের সেবায় অবদান হবে বলেও জানিয়েছিন তিনি।
সোনা (Gold) কেনার উপরেও রাশ টানার আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, সোনা কিনতে অনেক বিদেশি মুদ্রা খরচ হয়। এক সময় যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের মানুষ সোনা দান করত। কিন্তু এখন তা করতে হবে না। আপাতত দেশের জন্য একবছর সোনা না কেনার আর্জি জানান তিনি। বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতেই এটা করতে হবে বলেও জানিয়েছেন মোদি। সঙ্গে জানিয়েছেন, আগে তামা বিদেশে পাঠানো হত। কিন্তু তা এখন কিনতে হচ্ছে। এর জন্য ধর্মঘট-সংস্কৃতিকেই দায়ী করেন তিনি।
রাসায়নিক সার (Chemical fertilizers) ব্যবহার নিয়ে মোদি বলেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে আমাদের ধরিত্রী মায়ের কষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। এখন সার ব্যবহার কম যদি না করা হয়, তাহলে ভবিষ্য বড় বিপদ আসতে পারে। সারের ব্যাবহার ২৫-৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া চাষের জমিতে ডিজেল চালিত পাম্পের বদলে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পের ব্যবহার বৃদ্ধির উপরেও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া দেশের মানুষকে আগামী এক বছর বিদেশে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে দেশের মানুষের বিদেশে ঘোরার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে সঙ্কটের সময়ে সেই ভাবনা আপাতত বন্ধ রাখতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে যায় যা করা দরকার তা করতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দেখুন অন্য খবর :
