কলকাতা: বিধানসভা ভোটের কারণে রাস্তায় ‘বাসের দেখা নাই…’ (Kolkata Bus Crisis)। ভোটের বাজারে কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বেহালা থেকে ডানলপ সবত্রই এরই ছবি ধরা পড়েছে। বিপুল সংখ্যক বাস নির্বাচনের ডিউটিতে তুলে নেওয়ায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গাড়ি চলছে শহরের রাস্তায়। সরাসরি প্রভাব পড়েছে শহর ও শহরতলির সাধারণ যাত্রী পরিষেবায়। রাস্তায় বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্রের খবর, কলকাতার মোট বাসের সংখ্যা কমবেশি সাড়ে তিন হাজার। তার মধ্যে কমবেশি ২,৪০০ বাস এখন নির্বাচনের ডিউটিতে ব্যস্ত।ভোটের ডিউটির পাশাপাশি অনেক চালক ভোট দিতে বাড়ি চলে গিয়েছেন। যার জেরে সমস্যা আরও বেড়েছে। যার জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। প্রশাসন সূত্রে খবর, কলকাতার রাস্তায় বাস অমিল থাকতে পারে ৩০ মে পর্যন্ত। তবে প্রথম দফার ভোটের পরে দ্বিতীয় দফায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। বেহালা থেকে ডানলপ—সব জায়গাতেই বাসের জন্য হাহাকার। শহরের রাজপথ থেকে শুধু বাস নয় উধাও হয়ে গিয়েছে অ্যাপ ক্যাব, বাইক ট্যাক্সি, অটোরিকশা। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভোটের কর্মীদের ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন বিপুল সংখ্যক গাড়ি রিকুইজিশন (Election Duty Requisition) করেছে। স্কুলের পলকার ও ছোট বাসও রীতিমতো দখল করে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বাসমালিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, নির্বাচনী কাজে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে বহু বাস তুলে দিতে হয়েছে। এই বাসগুলি বিভিন্ন জেলায় ভোটকর্মী ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে শহর ও শহরতলির রুটে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বাসমালিকদের একাংশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে এই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই।
আরও পড়ুন: ‘মমতাকে হুমকি’ বিজেপির মুখপাত্রের পোস্টের ‘স্ক্রিনশট’ তুলে নিশানা তৃণমূলের
সকালের দিকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও যদিও বা ভিড়ে ঠাসা বাস মিলছে। কিন্তু সন্ধে হলেই বাসের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না কলকাতার রাস্তায়। চরম অব্যবস্থার কারণে নিত্যযাত্রীদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন কমিশনের বিরুদ্ধে।বেসরকারি গাড়ি, অটো ও অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবার উপর চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবায়ও যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বাস ইউনিয়নগুলো প্রতিটি রুটে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাস চালু রাখার আবেদন করেছে। শুধু তাই নয় ভোটের কাজে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বাসের অভাবে চূড়ান্ত দুর্ভোগের শিকার সরকারি কর্মীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার হাওড়ামারি স্কুলের ডিসিআরসি-তে পৌঁছনোর জন্য দুর্গাপুর থেকে বাস ছাড়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় দুর্গাপুর সিটি সেন্টার বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসগুলি ছাড়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে তা আসেনি। যে কয়েকটি বাস এসেছে তাতে তিল ধারনের জায়গা নেই। আসন না মেলায় এবং কমিশনের আধিকারিকদের দেখা না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভোট কর্মীদের একাংশ।
