Aajke | মিঠুন না দিলীপ না শুভেন্দু? কোন বনেগা মুখ্যমন্ত্রী?

0
28

২০২১-এর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, সেবারেও ভোটের আগেই ‘কোন বনেগা মুখ্যমন্ত্রী’ নিয়ে এক প্রবল আলোচনা, জল্পনা কল্পনা এমনকি খানিক মন কষাকষিও নাকি চলেছিল বিজেপি নেতাদের মধ্যে। কেবল মুখ্যমন্ত্রীত্বও নয়, তথ্য সংস্কৃতি দফতরের দাবিদারের নাম শুনেছিলাম। কাজেই ‘কোন বনেগা মুখ্যমন্ত্রী’- এই প্রশ্ন উঠলেই যে সেই দল এক্কেবারে জিতেই বসে আছে, তেমন তো নয়, গতবারে মুখ্যমন্ত্রীত্বের স্বপ্ন কোনওক্রমে ওই বিরোধী দলনেতা হবার বাস্তবতায় যেতে বেশি সময় নেয়নি, আর তখন খুব বেশি অপশনও ছিল না। কারণ ২০১৯-এই তো দিলীপ ঘোষ এমপি হয়েছিলেন, আর মিঠুন চক্রবর্তী ভোটেও দাঁড়াননি। কিন্তু এবারে এক্কেবারে অন্যরকম খেলা চলছে বিজেপির মধ্যে। হ্যাঁ, বিজেপির তিন কি চার শিবিরে যতই বিভেদ থাক না কেন, এবারে তাদের অন্তত দুই শিবির মনে করছে পরিবর্তন হচ্ছেই আর মুখ্যমন্ত্রীর দাবিটা এখন থেকেই তুলে ধরা উচিত, না হলে দেরি হয়ে যাবে। ‘হিন্দু রাষ্ট্র’, ‘সকলের চাকরি’, ‘আরও বেশি লক্ষ্মীর ভান্ডারে টাকা’, ‘কৃষকদের আয় দ্বিগুণ কেন তিনগুন করে দেওয়া হবে’- এগুলো তো কথার কথা। আসল কথা তো ক্ষমতা দখল, আসল কথা তো সরকারের বসা কাজেই এই প্রত্যেকটি মাথার লক্ষ্য ওই মুখ্যমন্ত্রীর পদ, যে স্বপ্ন তাঁরা গতবারেও দেখেছিলেন, যে পদের জন্য গতবারে দাবিদার ছিল দু’জন। এবারে মিঠুন চক্রবর্তী এসে যাওয়ায় দাবিদার বেড়েছে মাত্র। আর সেটাই বিষয় আজকে, মিঠুন না দিলীপ না শুভেন্দু? কোন বনেগা মুখ্যমন্ত্রী?

বিজেপির মাথায় বসে থাকা দুই গুজরাতি মনে মনে কী ভাবছেন, তা বোঝার চেয়ে নারীর মন বোঝা অনেক অনেক সহজ। কেউ কি ভেবেছিল, ছত্তিশগড়ে জেতার পরেও রমন সিংকে যেতে হবে বনবাসে? গদিতে বসবেন বিষ্ণুদেও সাই? কেউ ভেবেছিলেন, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী হবেন সম্পূর্ণ অপরিচিত নায়ব সিং সাইনি? মধ্যপ্রদেশে মোহন যাদব বা রাজস্থানে ভজন লাল শর্মা? একজন সাংবাদিক, পলিটিক্যাল পন্ডিত কিন্তু একবারের জন্যও এই নামগুলোর কথা ভাবেননি, ভেবেছেন দুই গুজরাতি, আর সবাই চমকে গিয়েছেন। তার মানে কি এরকম যে, এই নাম ঠিক করার পিছনে কোনও হিসেব নিকেশ নেই? কেবল একটা অপরিচিত নাম বা আরএসএস করে তাই তাঁর নাম এসে গিয়েছে? না, একেবারেই না। এই হিসেবের পিছনে একটাই শর্ত কাজ করছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে হতে হবে ‘বিন পেন্দি কা লোটা’, তার পিছনে কোনও জনভিত্তি থাকবে না, তিনি কোনও অনুষ্ঠানে এলে মানুষজন এই দুই গুজরাতির দিকেই তাকিয়ে থাকবে। হ্যাঁ, তাকিয়ে দেখুন একমাত্র উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র আর অসম ছাড়া কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাস বেশি আছে, এমন একজনও মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই। আর সেটাই বিজেপির এই দুই গুজরাতি নেতৃত্বের হাতে অপরিসীম ক্ষমতার উৎস।

আরও পড়ুন: Aajke | মুখ্যমন্ত্রীকে নর্দমায় ডুবিয়ে মারবেন, অভয়ার মা?

আর সেই ক্রাইটেরিয়া মাথাতে রেখেই আসুন দেখা যাক, যদি সাত মণ তেল পোড়ে, যদি রাধা নাচে তাহলে এই রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারে? এক নম্বর দাবিদার শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি খুব সাধারণ গরিষ্ঠতা পেলেও আর যেই হোক এই দুই গুজরাতির জন্য শুভেন্দু খুব ভালো চয়েজ নন, কারণ ইনিই আপাতত সেই বঙ্গ বিজেপি নেতা, যাঁর কিছুটা হলেও রাজ্যজুড়ে সমর্থন আর সংগঠন আছে, এনাকে রাখা মানে কিছুদিন পরে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া, ইনি বরং ডেপুটি সিএম-এর জন্য ভালো। দিলীপ ঘোষ, এমনিতে আরএসএস-এর প্রাক্তনী, বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত, দাবাং, কিন্তু ভীষণ ইগো, অহং কাজ করে, যা ওই দুই গুজরাতির নাপসন্দ, ইনিও ওই ডেপুটি সিএম হলেও হতে পারেন, সিএম নয়। রইল পড়ে মিঠুন চক্রবর্তী, বিজেপির ঝান্ডা ছেড়ে রাস্তায় নামলে সিনেমা ছাড়া আর কোনও পরিচয় নেই, বেশ কিছু উইক পয়েন্ট অলরেডি রেকর্ডেড, কাজেই সেই তারে হাত রাখলেই উনি ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠবেন, জনপ্রিয় অথচ নিজের কোনও বোধ, বুদ্ধি, রাজনৈতিক জ্ঞান কিছুই নেই, কিন্তু লয়ালটি, যা নাকি এই দুই গুজরাতি কেন? বিজেপির মূল কথা, সেটা নেই, উনি বামের সময়ে বাম, তৃণমূলের সময়ে তৃণমূল আর ফেঁসে গিয়ে বিজেপি করেছেন। অনুগত হয়েছেন, আনুগত্য নেই। আর সেই জন্যই উনিও কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিজেপির কাছে এক্কেবারেই বেমানান। মানে ওনার ডেপুটি সিএম হবার যোগ্যতাও নেই। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, যদি, হ্যাঁ যদির কথা নদীর ধার থেকে তুলে এনে, যদি এ রাজ্যে বিজেপি জেতে, তা হলে আপনাদের কি মনে হয় যে শুভেন্দু, দিলীপ বা মিঠুন এই তিনজনের মধ্যে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

মিঠুন চক্রবর্তী বলেছেন, “আমাকে যদি মুখ্যমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমি তা গ্রহণ করব।” মিঠুন চক্রবর্তীকে খিল্লি করা হচ্ছে, সেটা বোঝাও ওনার পক্ষে সম্ভব নয়। বাকি দু’জন অনেক অনেক পরিণত, তাঁরা মুখ বন্ধ করে দেখবেন। কিন্তু এসব কথা তো তখনও সিরিয়াসলি আলোচনা করা উচিত, যখন সত্যি করেই বিজেপি কমসম করেই ১৪০-এর ঘর পেরোবে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলার দিয়েও সেই সম্ভাবনাকে দেখতে পাচ্ছি না। তা হলে এই আলোচনা কেন? এই আলোচনা করলাম এটা বোঝাতে যে, দেখুন বাংলার মানুষ, কুঁজোরও মাঝে মধ্যে চিৎ হয়ে শোওয়ার শখ হয়, কোনওদিনও তা সম্ভব হয়ে না উঠলেও মনে ইচ্ছে জাগাটা সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

দেখুন আরও খবর:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here