‘একুশের লড়াইটা কঠিন ছিল’ মনোনয়ন জমা দিয়ে শাসক দলকে নিশানা নওশাদের

0
33

ওয়েবডেস্ক-  আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026)  সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী (Bhangar Candidate Nawsad Siddique) । সঙ্গে ছিলেন বারুইপুর পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী লাহেক আলি। নওশাদকে ঘিরে এদিন ছিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, সেই সঙ্গে রাস্তায় থাকা মানুষজনের সঙ্গেও হাত মেলান তিনি। মনোনয়ন (Nomination)  জমা দেওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের (Tmc) প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সেই তিনি জয়ের ব্যাপারের সম্পূর্ণ আশাবাদি বলে জানান।

এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নওশাদ বলেন, লড়াই কঠিন নয়, ২০২১ এর লড়াইটা কঠিন ছিল। রাজনীতি ময়দানে তখন নতুন এসেছিলাম। আইএসএফ (ISF)  সম্পর্কে একটা ধারণা তৃণমূল কংগ্রেস ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়ে বাংলার মানুষ প্রমাণ করেছিল। তিনি আবার বলেন, ২০২১ এর লড়াইটা অনেক কঠিন ছিল, বিজেপি এনআরসি করে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে, এই নামে ভোট হয়েছিল। বিগত পাঁচ বছরে আইনসভার মধ্যে থেকেও আইন সভার বাইরে থেকে, বাংলার মানুষের জন্য লড়াই করেছি, রাজ্যের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। দৃষ্টান্ত তৈরি করেছি। একজন বিধায়ক হিসেবে পশ্চিমবাংলার এক প্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে পৌঁছে গেছি। সুতরাং এই লড়াই, একুশের লড়াইয়ের মতো টাফ লড়াই নয়। এবার আশা করছি ডাবল মার্জিনে জিতে বিধানসভায় আসব।

আরও পড়ুন-  ‘ডবল ইঞ্জিন’ মানে কী? বিজেপির স্লোগানেই তীব্র খোঁচা অভিষেকের

এদিন নওশাদ বলেন, নির্বাচন কমিশন বলছে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ভোট করাবে, কিন্তু তৃণমূল দলের গুন্ডা বদমাশরা বাইরে থাকলে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হবে না। এদিন তিনি বলেন, ২০২১-এর আগে অনেক অশান্তি হয়েছে। ২০২১-এর পরে আমরা অনেক চেষ্টা করেছি নিয়ন্ত্রণ করার।

২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে ভাঙড় হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। তবে এবারের নির্বাচনে কমিশন অনেক শক্তপোক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। ভাঙড়ে কালোবাজারি বা ব্ল্যাক মানির আদান প্রদান হয়েছে, এটাও কমিশনকে জানিয়েছি। বোম বাঁধতে চালতাবেড়িয়াতে স্পট ডেড হয়েছে একাধিক মানুষ। সাথে সাহে অহিদুল ইসলাম বলে যে নেতা আছে তৃণমূলের সে এখনও গায়েব, তাকে নিয়েও তদন্ত হওয়া দরকার। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ভোট।

আধিকারিকদের কমিশনের সরিয়ে দেওয়া নিয়ে নওশাদ বলেন, আধিকারিকরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এটাই আশা করব। যদি কোনও কেউ পার্টির হয়ে পক্ষপাতিত্ব করে, স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হবে। তাহলে তাকে সরে যেতে হবে। সরে গিয়ে যে আসবে, সে নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করবে আমরা এটাই আশা করব।

মালদার আইএসএফ প্রার্থীর গ্রেফতারের কথায় তিনি বলেন, সব তৃণমূলের চক্রান্ত। এদিন তিনি বলেন, মালদার পুরো ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার। হাফিজুলের কথা নিয়ে আইএসএফ প্রার্থী বলেন, ক্যানিংয়ের একটা হাফিজুল নয়, ক্যানিং, মধ্যমগ্রাম থেকে শুরু করে ভাঙড়ে তৃণমূলে্র ছত্রছায়ায় এসে এইরকম গুন্ডা বদমাশ, সমাজবিরোধীগুলো সমাজকে আরও কলুষিত করছে। আমার ফান্ডামেন্টাল রাইটস ৩২৬ ভোটদানের (আর্টিকেল ৩২৬)। একদিনে অ্যাডজুডিকেশন হচ্ছে, যারা বৈধ ভোটার তারাও ভোট দিতে পারবে কিনা আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না। নওশাদ বলেন, হাফিজুল মোল্লারা ভয় দেখাচ্ছে হুমকি দিচ্ছে ৪ মে’ পর কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে না, এই সব নির্বাচন কমিশনের আরও নজর দেওয়া উচিত। যারা এই ধরনের হুমকি দিচ্ছে তাদের গ্যারেজ করে দেওয়া উচিত, ভোটে কোনও অ্যাক্টিভিটি না করতে দেওয়া উচিত।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here