আমি ভালো আছি, ঘন্টা খানেক দুয়ের মধ্যেই ভুলতে বসেছি গতকালের বিপদের কথা, কারণ নতুন অ্যাসাইনমেন্ট এসে গেছে, ঝড় শেষ, সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট, সেখানে যাবো, সরকারি সাহায্য পৌঁছেছে কি না, আরও কতটা দরকার, কী দরকার তার খোঁজখবর নিতে। একটা তরঙ্গের মত সাংবাদিকের জীবন, গতকালের তরঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রস্থ মনে রাখার সময় কোথায়? গতকালের রিপোর্ট এনজয় করেছি, আপনাদের উদ্বেগ আশঙ্কা অনুভব করেছি, আপনাদেরই কিছু লোকজনের করা ট্রোল উপেক্ষা করেই, আজ আবার হাজির। এটাই সাংবাদিকদের জীবন কালিদা, না হলে ১০ টা ৫ টার কেরানি হতে আটকাচ্ছিল কে? তা যাক। আজকের সম্পাদকীয়, আমি কৌস্তুভ রায়:
এই বিশেষ উল্লেখ কেনো? তাহলে মন দিয়ে শুনুন,
দুটো গল্প বলবো। প্রথমে পুরোনো সেই উকিলের চালাকির গল্প, এককথায় প্রশ্নের উত্তর দেবে, হ্যাঁ কি না দিয়ে, আর একটাও কথা নয়। তুমি কি এখনও তোমার বৌকে পেটাও? হ্যাঁ বলা মানে বৌ পেটানোর দায় নেওয়া, না বলা মানে আগে বৌ পেটাতো তা মেনে নেওয়া। দ্বিতীয় গল্পও সব্বার জানা, অন্ধের হস্তি দর্শন। হাতির ল্যাজ ধরে একজন বলে হাতি দড়ির মত, কান ধরে একজন বলে হাতি কুলোর মত, পা ধরে আর একজন বলে হাতি তো অবিকল পিলার, স্তম্ভ। এই দুটো গল্প পৃথিবীর আর কেউ পড়ুক বা না পড়ুক, মার্ক জুকেরবার্গ পড়েছিলেন, এবং এই দুটো গল্পই ফেসবুক তৈরির প্রেরণা। যদিও আমি ফেসবুকে নেই, থাকার প্রয়োজনও মনে করিনি, তবুও জানি যে, ফেসবুক হল গভীরতাহীন চটক চটুল মন্তব্য দিয়ে হাততালি কেনা, আর খন্ডিত সত্য নিয়ে ছেলেখেলা করা, সব কিছুতো হাঁড়িতে ফুটতে থাকা চাল নয়, যে একটা টিপেই ভাত হয়েছে কিনা বলা যাবে, কিন্তু ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়াতে সেটাই হয়, গতকাল ইয়াসের কভারেজের পর সেটা পরিস্কার, স্ট্রিট স্মার্ট কিছু অগভীর মন্তব্য আর নকুল দানা রসোগোল্লাকে এক করে দেখা শুরু হয়েছে, ইয়াস নয় কিছু মানুষের কাছে এটাই ছিল গতকালের টাইমপাস, গতকালের বিনোদন। কারা এই ফেসবুকে লেখেন? কারা মন্তব্য করেন? কারা লাইক ডিসলাইক, লাভ, হাহা হিহি দিয়ে থাকেন? প্রথম এবং বিরাট সংখ্যা হল, বিভিন্ন আইটি সেলের তলার সারির অজস্র কর্মচারী, যারা ১৫০০/২৫০০ টাকার বদলে বিভিন্ন পোস্টে গিয়ে খিস্তি খেউড় করে থাকে, দ্বিতীয় হল কিছু মানুষ জন, যাঁরা কোনও বিষয়ে একটা লাগসই কনটেন্ট তৈরি করে বাজারে ছেড়ে দেন, তাদের লক্ষ বিষয় নয়, আলোচনা নয়, লক্ষ লাইক আর শেয়ার, ব্যাস। তৃতীয় ধারা হল, ফেসবুকে কমেন্ট বা শেয়ার করা, উদ্দেশ্য কাউকে তেল দেওয়া, বিকেলে অমুকদার সঙ্গে দেখা করতে যেতে হবে, তমুকদা চাকরি জুটিয়ে দেবে বলেছে, নিদেনপক্ষে দিতে পারে, সকালে তার লেখাতে লাইক লাভ, কমেন্টের বন্যা বইয়ে দেওয়া, চতুর্থ হল অসফল, হতাশ, স্যাডিজমে ভুগতে থাকা, যৌন অবদমন বা অক্ষমতার শিকার, বিকৃত কাম,বৌ বা বর পেটানো, মিসোজেনিস্টিক এই সব মানুষজন যাঁরা কেউ হতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক, হয়েছেন মিষ্টির দোকানের মালিক, বা যতবার আলো জ্বালাতে যান, তত বার নিভে গেছে তার আলো গোছের প্রফেশনাল, এঁদের লেখা পড়লেই বুঝতে পারবেন, কি ভয়ঙ্কর হতাশা গ্রাস করে আছে এদের, করুণা হয়, এঁদের চিকিৎসা হওয়া উচিত। শেষ গ্রুপ হল সিরিয়াস রাইটার, বিষয় নিয়ে লেখেন, মন্তব্য করেন, ট্রোল চলতে থাকে তবুও নিজের বক্তব্য থেকে সরেন না, লেখার পেছনে গবেষণা থাকে, আমি কবি ও বিজ্ঞাপনদাতাদের বাদ দিয়েছি, যাঁরা সাত সকালেই কবিতা পোস্ট না করলে তাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় না, বা নিজের সিনেমা, গানের অনুষ্ঠান ইত্যাদির বিজ্ঞাপণ, এঁরা সেই অর্থে ফেসবুককে ব্যবহার করেন, ইয়াস কেন, আমফান, ফনী, কেউ এনাদের টলাতে পারবেন না, এই গভীর দূর্যোগের দিনেও তিনি তাঁর তৈরি শর্ট ফিল্ম বা কবিতা পোস্টিয়েছেন, দেখে নিন।
আমার অসুবিধে তাঁদের নিয়ে নয় যারা টাকার বিনিময়ে পোস্ট করেন, খিস্তি দেন, পাঠিয়ে দেওয়া কমেন্ট পোস্ট করেন, ট্রোল করেন, দেখি আর ভাবি, যাকগে বেচারারা টাকাটা পাচ্ছে তো, আফটার অল পেট বলে কথা, সেই সব অশিক্ষিতদের নিয়েও ভাবি না যারা জেনে, না জেনে না বুঝে কিছু পোস্ট শেয়ার করেন, লাইক দেন। সবার শিক্ষা দীক্ষা, বোধ বুদ্ধি জন্মানোর মত একটা সমাজ তো আমরাই গড়তে পারিনি, অতএব মূর্খ থাকবে, মূর্খামী থাকবে।
অসুবিধে তাঁদের নিয়েও নেই, যাঁরা ভেবেচিন্তে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করে, করেন। আমার মতের বিপরীতেও সে সব লেখা পড়া যায়। এক এক জনকে ভন্ড মনেই হয়, আরে ভাই জেল থেকে জামিনে বার হয়ে এই মহাজ্ঞান দেবার দরকারই বা কী? দেশের সেবা করতে গিয়ে তো জেল খাটো নি, জেল খেটেছো চুরির দায়ে, এখনও খালাসও হওনি, ৭ দিনে জামিন পেয়েছো তো কি হয়েছে, এখনও তো জামিনে মুক্ত, বেগড়বাই করলেই আবার সিবিআই, আবার জেল, না হলে এনআইএ তো আছেই, এক্কেবারে দেশদ্রোহী। তাই দীর্ঘ নির্বাচন কালে এনাদের সেকুলার মুখোশটা খুলে ,আমি তো কোনও দলেই নেই ,মুখোশ পরে বসে ছিলেন, আরএসএস স্পনসরড অনুষ্ঠানেও গিয়েছেন, তবে হ্যাঁ এনাদেরও লেখা সুখপাঠ্য। পড়া যায়, আর কবি ও বিজ্ঞাপনদাতাদের তো, আগেই বাদ দিয়েছি।
আমার প্রশ্ন ওই তাদের নিয়ে, যারা আপাত প্রগতিশীল, আসলে ধান্দাবাজ, আপাত সেকুলার কিন্তু বিজেপি নিয়ে গোটা নির্বাচনের সময়টা শালগ্রাম শিলা হয়ে বসে থাকলেন, যারা কিছুদিন সাংবাদিক ছিলেন, এখন মশলা কলকে কোনওটাই হাতে নেই, সবটাই প্রাক্তন, কেউ মিষ্টির দোকান দিয়েছেন, কেউ বুটিক, কেউ অবসরপ্রাপ্ত জাবর কাটিয়ে, কেউ এখনও মাইনে পান, কিসের জন্য পান তাই জানেন না, সেই তাঁরাই গতকাল সাংবাদিক হইতে গেলে কী করিতে হয়, কী কী করিতে হয়, সেই সাংবাদিকতার পাঠ পড়িয়ে গেছেন, তাঁদের লেখায় বানান ভুল নেই, এই পর্যন্তই, বাকিটা নিম্নমানের হতাশা আর হাহাকারের বানের জল, কেউ কবি, কিন্তু ছিলেন সংবাদপত্রে, তাই তাঁর হক জন্মে গেছে সাংবাদিকতা নিয়েও কথা বলার, তিনিও বলছেন কী করিতে হইবে?
বিশেষ একটা ঘটনা নিয়ে বলাই যায়, যায়ই তো। সাংবাদিকতার নামে আড়াই তিন মাস ধরে, অর্কপ্রভ সরকার থেকে শাফিকুলরা যে নির্লজ্জ বিজেপি আর এস এস এর প্রচার করে গেলো, তাকে কী বলবেন? তাদের তো বলাই উচিত যে, দয়া করে নিজেদের সাংবাদিক বলবেন না। ওদিকে সাংবাদিক থেকে মিস্টিওলা বনে যাওয়া, অনিলাভ প্রশ্ন করেছেন, আমফানের টাকায় যে তৃণমূলের নেতারা টাকা ঝেড়েছে, তা নিয়ে খবর করুন, তবে তো বুঝবো প্যাসন, আপাতত মিষ্টিওলা কিন্তু এখনও নিজেকে সাংবাদিক বলা, এই মানুষটাকে জিজ্ঞেস করা যাক, আপনি এই চার, পাঁচ, ছ বছরে কবার তেমন খবর করেছেন? একবারও নয়, এমনও নয় যে আপনি স্পোর্টসের বাইরে খবর করেন না, দিব্য করেন, এগুলো কেন করেননি? আপনার ঘরেও তো আরও সাংবাদিকরা আছেন, মানে আপনার স্ত্রী ও তো সাংবাদিক, গুলুগুলু পুচুপুচু ছবি পোস্ট করা ছাড়া কী করেছেন? এই দীর্ঘ নির্বাচনী রাজনৈতিক যুদ্ধ চলাকালীন কোন পক্ষে ছিলেন? চুপ করে ঘাপটি মেরে পড়েছিলেন, এই সব সাংবাদিকেরা, যদি বিজেপি জিতে যায় তো বিজেপি, না জিতলে আবার নিরপেক্ষ। ২৪ ঘন্টায় কোন শর্তে কাজ করতে গিয়েছিলেন অদিতি রায়? মনে আছে ২০১১ র আগে কবীর সুমনের কটা বিয়ে, তাই নিয়ে আপনার প্রতিবেদন? ওটা সাংবাদিকতা ছিল? তখন কার প্রেরণায় ওই খবর করেছিলেন? আজ তিনিও সাংবাদিকতা নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন, কিসের বুজকুড়ি? হতাশার, কলকে না জোটার? অনেকেই জানেন না আমরা তো জানি বাম জামানায়, কার নামে কোন আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার মামলা কোন কমরেড অভিক দত্ত, কি ভাবে পুলিশকে প্রভাবিত করে ধামাচাপা দিয়েছিলেন, সেই সব চেকারবোর্ড ক্যারেকটারের মানুষজন আজ নৈতিকতার পাঠ দেবেন, আর আমরা শুনব? স্বর্ণালী নামে একজন অ্যাঙ্কার কাম সাংবাদিক তিনিও মাঠে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ কর্মচারীদের মাইনে মেরে দেবার, আপাতত সাংবাদিকতার পিঠস্থান, রিপাবলিক বাংলায় আছেন, তিনিও নৈতিকতা নিয়ে জ্ঞান দেবেন, লোকে শুনবে? রিপাবলিক টিভি, যাদের সাংবাদিক, সিবিআই সেজে, কিডন্যাপের দায়ে, তোলাবাজির দায়ে গ্রেফতার, তাদের কাছ থেকে সাংবাদিকতা শিখতে হবে? হাঁটু জলে সাঁতার ও বাস্তবতা নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন প্রসেনজিৎ বক্সি, কোন বাঁকা উপায়ে, চ্যানেল টেন থেকে, দূরদর্শনের কনসাল্টিং এডিটর হলেন সেটা না জানিয়েই, আবার গোটা নির্বাচনকাল জুড়ে আর এস এস এর নির্দেশ মেনেই সম্ভবত বিজেপির প্রচারে সামিল, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিষ উগরেছেন, আজ হঠাৎ সাংবাদিকতা, মরালিটি ইত্যাদি নিয়ে মাঠে, আরো আছেন, খেয়াল করে দেখবেন, হয় ছুপা চাড্ডি, নয় কলকেহীন হতাশ বাম, নৈতিকতার পাঠ পড়াচ্ছে এরা।
বক্তব্য কী? প্রথম বক্তব্য, গ্রাউন্ড জিরোতে যাবার কী দরকার। যাঁরা প্রশ্ন করছেন, তাঁদের পূর্বসূরিদের কেউ কেউ বনগাঁতে বসেই যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রিপোর্ট পাঠিয়েছিল। সে থাক, উত্তরে আসি। টেলিভিশনের যুগ, টেলিভিশন যারা দেখেন, তাঁরা কী চান? তাঁদের হাজার হাজার চোখ কী চায়? ঝড় আসছে, তাঁরা কেউ দীঘা, কেউ বকখালি গেছে, ঝড় নাকি সেখান থেকেই ঢুকছে, সেই দর্শকদের লক্ষ লক্ষ চোখ, দীঘার সমুদ্র, কাকদ্বীপ, বকখালির মোহনা, সমুদ্রের ছবি দেখতে চায়, দেখতে চায়, ত্রাণের কাজে নামা জওয়ানদের স্পিড বোট, হোটেলের জানলা দিয়ে নয়, সামনে থেকে। খবরের কাগজের পাঠকদেরও চাহিদা তাই, ধরুন আজ এই সময় পত্রিকার প্রথম পাতায় জয়ন্ত সাউয়ের তোলা ছবি, এটা হোটেলের জানলা দিয়ে সম্ভব? দেখুন উনি কোথায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন, জয়ন্ত সাউয়ের ফেসবুক ভিডিও, https://www.facebook.com/jayantashaw/videos/10160810769343154
জানলায় বসে সম্ভব? তাই সাংবাদিকরা যান গ্রাউন্ড জিরোতে, তাঁদের পাঠানো হয়, আমরাও পাঠাই। তারপর? তারপর গ্রান্ড জিরোতে গিয়ে কেউ আরও সাহসী, কেউ হিসেবি, কারোর আরও গভীরে গিয়ে ছবি করার ইচ্ছে থাকে, আরও ভালো ছবি। কেউ বা নিরাপদে থেকে গল্প বানায়, দুর্বল চিত্রনাট্য লেখে, হাঁটু জলে সাঁতার দিতে বলে, রাস্তার ধারে ডোবায় নেমে যায়, গলাজল ছবি তুলতে, তা তো অসততা। কোন পেশায় নেই। তার সমর্থন কেউ করবে না। কিন্তু তা নিয়ে কথা বলার অধিকার তাদের নেই, যারা খবর করবো বলে চ্যানেলের পয়সায় আন্দামান ঘুরে ফিরে এসে টাকার হিসেব দেয় না, বা কবীর দা এ যুগের শ্রেষ্ঠ গায়ক বলার পরে কেবল নির্দেশে কবীর সুমনের কটা বিয়ে, তা নিয়ে কেচ্ছা রিপোর্ট যারা করে তাদের কাছ থেকে সাংবাদিকতার পাঠ নেবো কেন? আমাদের রিপোর্টার সি বিচে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিল, অন্যায় করেছিল, তাঁর এটা করা উচিত হয় নি, রিপোর্টার ক্যামেরাম্যান সি বিচেই একটু উঁচু জায়গা, মানে টপ অ্যাঙ্গল খুঁজছিলেন, তাঁদের সাবধান হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তাঁরা খবর বানায়নি, বড় জোর বলা যায় অ্যাডভেনচারিজম, আরো রোমাঞ্চকর কিছুর খোঁজে তাঁরা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছিল, অল্পের ওপর দিয়ে গেছে, গাড়ি, কিছু যন্ত্রপাতি গেছে, তাঁরা প্রত্যেকেই সুস্থ, কিন্তু তাঁদের এই ট্রোল প্রাপ্য? সেই ট্রোল করবে এক মিস্টিওলা বনে যাওয়া সাংবাদিক? একজন জুনিয়র যে ভুল করেছে, তার এটা প্রাপ্য? তার কথা বাদই দিলাম, প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এথিক্স নিয়ে, টিআরপি নিয়ে। যারা তুলছেন তারা জানেনই না যে কার্টসি অর্ণব গোস্বামী, আপাতত টিআরপি বলে কিছু নেই, তিনি চুরি করে, ঘুষ দিয়ে টিআরপি বাড়াচ্ছিলেন এই অভিযোগের মামলা চলছে গত ৮ মাস টিআরপি বলে কিছু নেই। অথচ ওই মূর্খ অর্বাচীন চোখে আঙুল দাদার দল টিআরপি বাড়ানোর জন্যই নাকি এটা করা হচ্ছে, সেই প্রচার করেই গেলেন, করেই গেলেন, সারাদিন, সন্তান সম, জুনিয়র রিপোর্টারদের নিয়ে সারাদিন খিল্লি, কী আনন্দ।সাংবাদিকতার মূল শর্ত, ঘটনাস্থল থেকে রিপোর্টিং তার বিরুদ্ধে একটা ফাঁকা আওয়াজ তুলতেই থাকলেন।
অভিযোগ কী? নাকি আমাদের চ্যানেল গত দু বছর বিজেপির বিরোধিতা করেছে, মমতাকে সমর্থন করেছে, আমি কৌস্তুভ রায় বিভিন্ন জেলায় হোটেলে বসে এই সময়ে কী করছিলাম? সংবাদ মাধ্যমের দুটো জায়গা থাকে। একটা হল খবর, অন্যটা হল সম্পাদকীয়। আমরা গত তিন চার মাসে প্রত্যেকটা প্রধানমন্ত্রীর সভা কভারেজ করেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভা, বিভিন্ন মন্ত্রী, বিজেপি নেতাদের সভা কভারেজ করেছি, বিশেষ অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতাদের ডেকেছি, বিজেপি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, অন্যদেরও ছিল, বাম, কংগ্রেস, তৃণমূল, সবারই ছিল। কিন্তু সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে আমরা বিজেপির বিরোধিতা করেছি, প্রত্যেকটা চতুর্থ স্তম্ভে আমরা বিজেপির বিরোধিতা করেছি, অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের গায়ে লাগবে, জেনেও করেছি, আরও অনেকের অনুষ্ঠান শোনার পর গা চিড়বিড় করবে জেনেও করেছি। আর ব্যক্তিগতভাবে আমি ফ্যাসিবাদি, সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে রোখার জন্য তৃণমূলকেই উপযুক্ত মনে করেছিলাম, মনে করেছিলাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকাতে পারেন বিজেপিকে তাই সারা পশ্চিমবঙ্গ ঘুরেছি, হোটেলের ঘরে, শহরের মাঠে, ময়দানে দাঁড়িয়ে সেই কাজটা করেছি, লুকিয়ে লুকিয়ে হাওড়ার সাংবাদিককে ধরে দূরদর্শনের কনসালট্যান্ট এডিটর হইনি।আমি কলকাতা টিভি চ্যানেলের সম্পাদক, তাই সম্পাদকীয় লেখা বিজেপি বিরোধী হয়েছে।
আসুন লড়াইটা সামনা সামনি হোক, আপনি চান সাংবাদিকরা ঘরে বসে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করবে, আমরা তা চাই না, সেটা সাংবাদিকতা নয়, মোসাহেবী। আমরা তা করবো না। আপনারা চান রাতের অন্ধকারে নিজের বিবেক বিক্রি করে, বশ্যতার বদলে প্রতিদান পেতে, আমরা আমাদের এডিটোরিয়াল পলিসি প্রকাশ্যে রাখার পক্ষপাতি। আপনারা চান কয়েকটা উজবুক অসাংবাদিককে সামনে রেখে প্রত্যেককে অপমান করতে। আমরা চাই একটা নয়, আরও অনেক সুচন্দ্রিমা সাইক্লোনে, দাঙ্গায়, মহামারী, অতিমারী, ভুমিকম্প, যুদ্ধ এমন কি ভাঙনের পর নির্মাণের সময়েও গ্রাউন্ড জিরোতেই থাকবে, আমরা শপথ নিচ্ছি, উই প্রমিস, আই শপথ, আমরা সেটা করে দেখাবো।